আইএসএল কি ভারতীয় ফুটবলের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত?
আমেরিকার মেজর লিগ সকারের মতন করে, ভারতে ২০১৪তে শুরু হয়েছিল ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। ৮ ফ্র্যাঞ্চাইসি দলের এই টুর্নামেন্ট-এ প্রথম থেকে ছিল দেখবার মতন যাকযমক। বিশ্বকাপ জেতা, ব্রাজিলীয় জিকো, রবার্টো কার্লস ইতালীয় মাত্তেরাজ্জি থেকে ভারতীয় তারকা সুনিল ছেত্রি, মেহতাব দের নিয়ে শুরু এই টুর্নামেন্ট, ভারতীয় ফুটবলে বরদান না অভিশাপ?
ভারতীয় ফুটবলে আই এস এলের ইতিবাচক কিছু দিক
টিভিতে নিয়মিত সম্প্রচার :-আই লীগের খেলা জি স্পোর্টস বা অন্যান্য টিভি চ্যানেল সম্প্রচার করলেও মাঝে মাঝে না না অজুহাতে তারা কিছু খেলার সম্প্রচার করতো না. যেটা নিয়ে আপামোর ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের মনে একটা ক্ষোভ থাকতো. আই এস এল আসার পরে ষ্টার স্পোর্টস র মতো জনপ্রিয় ভারতীয় চ্যানেলে ফুটবলটা নিয়মিত সম্প্রচার হচ্ছে. যেটা ভারতীয় ফুটবলে একটা ইতিবাচক দিক.
প্রচার :ম্যাচের আগে যেই প্রচার যেটা আই লীগে খামতি ছিলো সেটা আই এস এলে নেই. প্রতিটা ম্যাচের আগে টিভিতে এবং খবরের কাগজে জোরদার প্রচার করা হয়.আই লীগের প্রচার ও টিভিতে বা খবরের কাগজে হতো কিন্তু সেটা শুধু সেখানেই হতো যেখানে ফুটবল জনপ্রিয় কিন্তু আই এস এলের প্রচার সারা ভারতব্যাপী হয়.
হাই প্রোফাইল বিদেশী খেলোয়াড় এবং হাই প্রোফাইল বিদেশী কোচ :-আই লীগে ও বিদেশী খেলোয়াড় বা বিদেশী কোচ আসতো কিন্তু আই এস এলের মতো হাই প্রোফাইল বিদেশী কোচ বা খেলোয়াড় আসতো না বা খুব কম আসতো.
আই এস এল ভারতীয় দর্শকদের চোখের সামনে দেল পিয়েরো, ত্রেজেগুয়েত, ইলানো, মাতেরাজ্জি, লুসিও, আন্দ্রে স্যান্টস, রবার্ট পীরেস, লুই গারসিয়া দের মতো কিছু বিশ্বকাপার এবং কিছু বিশ্বকাপ না খেললেও কনফেডারেশন কাপ খেলা ইউরোপ সার্কিট এ নামি খেলোয়াড়দের চোখের সামনে খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে, যাদের সাথে প্রাকটিস এবং ম্যাচ শেয়ার করছে ভারতীয় খেলোয়াড়রা.
![]() |
| Image Credits By: Pav Kilo |
জিকো, গিউমারেস দের মতো নামি কোচদের কোচিং পাচ্ছে ভারতীয় ফুটবলাররা.
এ এফ সি চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সরাসরি খেলার সুযোগ :আই এস এলে ব্র্যান্ডিং এবং উচ্চমানের বিদেশীরা খেলায় খেলার মান বেড়েছে এবং এ এফ সি আই এস এলে গ্রুপ পর্যায়ের চ্যাম্পিয়নকে সরাসরি লীগে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে এ এফ সি.
ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক কিছু ভালো পারফরমেন্স যেমন চীনের সাথে অ্য়াওয়ে ম্যাচে 0-0 ড্র হোক এ এফ সি এশিয়া কাপে থাইল্যান্ডকে 4-1গোলে হারানো বা আরব আমিরশাহী র সাথে হারলেও যথেষ্ট উজ্জ্বল ফুটবল খেলে ভারত এবং বিশ্বকাপ যোগ্যতাঅর্জনপর্বতে কাতার এর মতো দলকে অ্য়াওয়ে ম্যাচে 0-0 রুখে দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়রা কৃতিত্ব দিচ্ছে আই এস এল কেই.
ভারতীয় ফুটবলে আই এস এলের নেতিবাচক কিছু দিক
সমান্তরাল লিগ- ভারতে এই মুহূর্তে দুটো লিগ একসাথে হয়। ইন্ডিয়ান লিগ বা আই-লিগ এবং ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল, যা পাশাপাশি চলতে থাকে। ভারতীয় ফুটবল বোর্ডের অভিনব কিছু সিদ্ধান্ত, উঠতি তারকা দের গভীর সংকটে ফেলে দিচ্ছে। যেমন যে খেলোয়াড় আইএসএলে খেলবে সে, আইলিগে খেলতে পারবে না। স্বভাবতই তারকা খচিত এবং প্রচারের আলোয় থাকা আইএসএল উঠতি তারকাদের প্রথম পছন্দ হলেও, তারা সুযোগ পায় না ম্যাচ খেলবার।
ম্যাচসংখ্যা- আইএসএলে অংশগ্রহণ কারি আট দলকে নিয়ে হওয়া তিন মাসের এই লিগে প্রত্যেক দল গ্রুপ লিগ এবং নক-আউট মিলিয়ে প্রত্যেক দল কে মাত্র ষোলটা করে খেলা খেলতে হয়। যা আজকের ফুটবল পরিসংখ্যানে খুবই কম। ফল স্বরূপ খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলে খুবই কম, ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতার সাথে তারুন্যের মেল বন্ধন প্রায় হয়না বললেই চলে।
এই প্রসঙ্গে ভারতীয় কোচ ইগর স্টিমাচ এবং ক্যাপ্টেন সুনিল ছেত্রি একমত হয়েই বলেন, ভারতীয় দলগুলিকে আরো বেশী করে ম্যাচ খেলতে হবে।
মাঠমুখি দর্শকের অভাব- প্রচার, মশলা এবং বিনোদনের পর্যায়ে ফুটবলকে নিয়ে গিয়েও , আইএসএল ব্যর্থ দর্শকদের মাঠমুখী করে তুলতে। তার প্রধান কারন খেলার গুনগত মান, ভারতের মতন দেশে ফুটবলের ব্রাত্য হয়ে থাকা এবং ভারতীয় ফুটবল সংস্থার দ্বিচারীতা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ বা লা লিগার যুগে ভারতীয় ফুটবল সংস্থা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা ভারতীয় ফুটবলের উন্নতীর কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ক্রমাগত ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।
ভারতীয় ফুটবলে আই এস এলের নেতিবাচক কিছু দিক
সমান্তরাল লিগ- ভারতে এই মুহূর্তে দুটো লিগ একসাথে হয়। ইন্ডিয়ান লিগ বা আই-লিগ এবং ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল, যা পাশাপাশি চলতে থাকে। ভারতীয় ফুটবল বোর্ডের অভিনব কিছু সিদ্ধান্ত, উঠতি তারকা দের গভীর সংকটে ফেলে দিচ্ছে। যেমন যে খেলোয়াড় আইএসএলে খেলবে সে, আইলিগে খেলতে পারবে না। স্বভাবতই তারকা খচিত এবং প্রচারের আলোয় থাকা আইএসএল উঠতি তারকাদের প্রথম পছন্দ হলেও, তারা সুযোগ পায় না ম্যাচ খেলবার।
ম্যাচসংখ্যা- আইএসএলে অংশগ্রহণ কারি আট দলকে নিয়ে হওয়া তিন মাসের এই লিগে প্রত্যেক দল গ্রুপ লিগ এবং নক-আউট মিলিয়ে প্রত্যেক দল কে মাত্র ষোলটা করে খেলা খেলতে হয়। যা আজকের ফুটবল পরিসংখ্যানে খুবই কম। ফল স্বরূপ খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলে খুবই কম, ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতার সাথে তারুন্যের মেল বন্ধন প্রায় হয়না বললেই চলে।
এই প্রসঙ্গে ভারতীয় কোচ ইগর স্টিমাচ এবং ক্যাপ্টেন সুনিল ছেত্রি একমত হয়েই বলেন, ভারতীয় দলগুলিকে আরো বেশী করে ম্যাচ খেলতে হবে।
মাঠমুখি দর্শকের অভাব- প্রচার, মশলা এবং বিনোদনের পর্যায়ে ফুটবলকে নিয়ে গিয়েও , আইএসএল ব্যর্থ দর্শকদের মাঠমুখী করে তুলতে। তার প্রধান কারন খেলার গুনগত মান, ভারতের মতন দেশে ফুটবলের ব্রাত্য হয়ে থাকা এবং ভারতীয় ফুটবল সংস্থার দ্বিচারীতা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ বা লা লিগার যুগে ভারতীয় ফুটবল সংস্থা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা ভারতীয় ফুটবলের উন্নতীর কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ক্রমাগত ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।
বিদেশি খেলোয়াড় চয়ন- আইএসএলে খেলা কিছু দল, খুবই নিম্ন মানের বিদেশি চয়ন করে, দলগঠন করে যা, ভারতীয় ত্রুন ব্রিগেড কে ফুটবল মুখী করে তুলতে ব্যর্থ।
নিজস্বতা- আইএসএল খেলা দল গুলির মধ্যে বেঙ্গালুরু ছাড়া কোন দলের নিজস্ব পরিকাঠামো নেই। যেখানে বিশ্ব ব্যাপি সব ফুটবল খেলিয়ে দেশের ক্লাব গুলিতে, নিজেদের পরিকাঠামো এক কথায় অনবদ্য। একাডেমি, মাঠ এবং নিজেদের খেলোয়াড় দের ট্রেনিং করবার পরিকাঠামো আইএসএল খেলিয়ে দলগুলির প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ভারতীয় ফুটবলে, উঠতি তারকার অভাব।
নিজস্বতা- আইএসএল খেলা দল গুলির মধ্যে বেঙ্গালুরু ছাড়া কোন দলের নিজস্ব পরিকাঠামো নেই। যেখানে বিশ্ব ব্যাপি সব ফুটবল খেলিয়ে দেশের ক্লাব গুলিতে, নিজেদের পরিকাঠামো এক কথায় অনবদ্য। একাডেমি, মাঠ এবং নিজেদের খেলোয়াড় দের ট্রেনিং করবার পরিকাঠামো আইএসএল খেলিয়ে দলগুলির প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ভারতীয় ফুটবলে, উঠতি তারকার অভাব।



No comments:
Post a Comment