EAST BENGAL

[East Bengal][bsummary]

ISL

[ISL][bigposts]

International Football

[World Football][twocolumns]

ফুটবল, দেশ এবং এক রিফিউজির বেঁচে থাকবার লড়াই।

আজ আন্তর্জাতিক রিফিউজি দিবস, সারা বিশ্বে প্রায় ৭০ কোটি মানুষ আজ রিফিউজি। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বা অত্যাচার, অবহেলায় জর্জরিত হয়ে তারা আজ অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে থাকছেন। পেছনে ফেলে এসেছেন অনেক স্মৃতি। আমিও তাদের মধ্যে একজন, আমি ভারতীয়, আমি বাংলাদেশী রিফিউজি।

১৯৭১ সালের অগস্ট মাস, শেখ মুজিবুর রহমান তার মুক্তিযোদ্ধা বাহিনীকে সংকেত দিয়ে দিয়েছেন এবার যুদ্ধে যেতে হবে। পূর্ব পাকিস্তানে ঘটা বাংলাদেশী হিন্দুদের গণহত্যার পর, হাজার-হাজার বাংলাদেশী তখন পূর্ব-পাকিস্তানের রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে, যা ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত। মার্কিন সেনেটর টেড কেনেডি এসে বলে গেলেন, পাকিস্তানের এই অমানবিক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না, সাথে ভারত থেকেও পূর্ণ সমর্থন পেয়ে মুক্তি বাহিনী তখন নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখছে। নভেম্বর মাসে যখন ভারতীয় সেনা এবং বায়ু-সেনা প্রকাশ্যে আমাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল, পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুরু করল বাঙালিদের অকথ্য অত্যাচার, যার ফলপ্রসু ভারত দ্বারা ফরমান জারি। মুক্তি বাহিনীর যোদ্ধাদের, বর্ডার টপকে ভারতে আশার অবাধ ফরমান। পাকিস্তানী আর্মির বর্বরচিত আচরণ এবং দুর্ভিক্ষের কারনে, প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী ভারতে চলে এসে পশ্চিমবঙ্গ আর ত্রিপুরায় বাস করতে থাকে। আমি তাদের মধ্যে একজন। বর্ডার টপকে চলে আসি পশ্চিমবঙ্গের হুগলী চত্তরে, নতুন জীবনের সন্ধানে । পেছনে ফেলে আসা হাজারও স্মৃতি নিয়ে শুরু হল, নতুন দেশ, নতুন ভিটে মাটিতে বেঁচে থাকবার লড়াই, নতুন জীবন খোঁজের লড়াই। ভেবেছিলাম, এবার মুক্তি ঐ বর্বরচিত আচরণ থেকে, দিনের পর দিন নিপীড়নের হাত থেকে, বাঙালী স্বত্বাকে কেড়ে নেবার হাত থেকে। এখানে আসার পরে জানতে পারলাম, আমি বাঙালি না, আমি বাঙাল,আমি ওপার বাংলার লোক, আমি কলেরা রোগীর মতন অস্প্রৃশ্য। শুরু হল আরেক লড়াই, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই, বাঙালি হয়ে বাঙালি জাতির সাথে লড়াই।
১৯৭২ সালের এপ্রিল মাস, কোনদিন ভাবিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক অর্জন করেও প্রথমে ভিক্ষা এবং পরে হাওড়া স্টেশনএ মুটের কাজ করতে হবে। এই লড়াই হেরে যাচ্ছিলাম, বার বার মনে হচ্ছিল আর না, এবার লড়াই থামিয়ে দি।ভেবে ছিলাম নতুন শুরু হওয়া ৫.৩০ এর রাজধানীতে লড়াইটা শেষ করে দিই। বিকেল ৫.৩০ টায় রাজধানী হাওড়া স্টেশন ছারতেই পৌঁছে যাই লাইনে আমার লড়াই, আমার মতন বাঙালদের লড়াইকে থামাবার জন্য। দুর্গাপ্রসাদ, (চাটগাইয়া বাঙাল) এসে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া লড়াইকে বাচিয়ে তোলে। বলে, ওপার বাঙলার মানুষরা নতুন জীবন খুঁজতে এক জায়গায় যায়, আমায় নিয়ে যাবে, তখনও যদি মনে হয় আমার লড়াই, আমাদের লড়াই মিথ্যে , আমি চাইলে আমার লড়াই থামাতে পারি। 
পরের দিন গঙ্গা পেড়িয়ে পৌঁছে গেলাম, জানতে পারলাম জায়গার নাম ইস্টবেঙ্গল মাঠ। অবাক হয়েছিলাম নাম শুনে, আরও অবাক হই যখন জানতে পারি, একজন ওপার বাঙলার ছেলে একজন বাঙাল সুধির কর্মকার এদেশীয় দের চোখে চোখ রেখে লড়ে যাচ্ছে। লজ্জা হয়, অনেক অনুশোচনাও হয় জেনে, বছর পচিশের এই ছেলে সেই লড়াই লড়তে পারে তাহলে আমি কেন পারব না। ঐ ম্যাচ জেতার পরে দেখছিলাম, গোটা মাঠ উল্লাসে ভাসছে, হাতে কাগজ জ্বালিয়ে আনন্দ করছে। ঐ আগুন কে স্বাক্ষি  করে না জানি, আমার মতন কতজন প্রত্যয় নিচ্ছে নতুন করে লড়াই শুরু করবার। মনে মনেই বাজতে থাকে "লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই"। চলতে থাকে জীবনের সাথে লড়াই, চলতে থাকে বেঁচে থাকবার লড়াই, হেরে গিয়ে ফিরে আসবার লড়াই। ইস্টবেঙ্গল আর ফুটবলকে নিয়ে বাচবার লড়াই। 
২০২০ সাল আজ আমি প্রতিষ্ঠিত, আজ আমি হাজারও বাঙালের অনুপ্রেরনা, বাঙালি রিফিউজি আমাকে নিয়েই বাঁচতে চায়। ভাবছেন আমি কে? আমি আবেগ, আমি আত্মভিমানি, আমিই অহং। আমি আছি প্রত্যেক রিফিউজির মনে কখন ইস্টবেঙ্গলএর রুপে কখনও ফুটবলের রুপে কখনও ঐ মশালের জ্বলন্ত আগুন রুপে। আমি প্রত্যেকদিন প্রত্যয় করি, না হারবার। আমি হারতে পারি না, আমি হারতে জানিনা, আমি রিফিউজি আমাকে বাচতেই হবে, আমাকে লড়তেই হবে। কারন 
"লড়াই লড়াই লড়াই চাই
লড়াই করেই বাচার মতন বাঁচতে চাই" 

No comments:

Post a Comment