বিশ্ব-ফুটবল যেভাবে রাজনীতির শিকার হয়েছে বারংবার।

খেলার জগতে রাজনীতির প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে জরিয়ে থাকার প্রচুর নজির রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে খেলার দুনিয়া কে সাহায্য করছে প্রসার ঘটাতে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিও করেছে। অলিম্পিক থেকে ফুটবল ক্রিকেট থেকে কবাডি সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে রাজনীতির জাল। ফুটবল জগতে যার প্রভাব অনেক বেশী।
১. ফুটবল যুদ্ধ
খেল-দুনিয়ায় রাজনীতির সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত রেখেছিল এল-সাল্ভাদর এবং হন্ডুরাস। আর্থ-সামজিক এবং রিফিউজিদের জমি দেওয়া নিয়ে এই দুইদেশের মধ্যে মন-মালিন্য চলে আসছিল, যা ভয়ানক রুপ নেয়, ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপের যোগ্যতা-অর্জন ম্যাচে।
![]() |
| হন্ডুরাস বনাম এল-সালভাডোর এর ম্যাচের পর দুই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষের মুহূর্ত। |
তেগুসিগাপলা, তে ম্যাচ চলা কালিন হন্ডুরাসের সমর্থক দের সম্মুখীন হতে হয় অকথ্য অত্যাচারের, তাদের জাতীয় সঙ্গীত অপমান করা হয় এবং পতাকাও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। যা পরবর্তী কালে বিরাট আকার নেয়। এবং প্রায় দশ হাজার, সানসাল্ভাডর(সাল্ভাডরের মানুষ দের বলা হয়) মারা যায়, আর কয়েক লক্ষ্য মানুষ দেশ ছারতে বাধ্য হয়।
২.ক্যাম্পনু এবং ক্যাটালুনিয়া
ফুটবল জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্লাব হল, বার্সালোনা। আর কারোর অজানা নেই, এই ক্যাটালুনিয়ান ক্লাবের সাথে সেই দেশের রাজনীতির পরোক্ষ ভাবে সংযোগ রয়েছে। ক্যাটালুনিয়া নিজের স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, যেখানে ফুটবল ক্লাবের কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যেই এই লড়াইএর মদত দিয়েছেন। মাঠের ভেতর বা মাঠের বাইরে। অনেক সময়ই দেখা গেছে স্প্যেন বিরোধি টিফো, মাঠে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
![]() |
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রতিবাদরত বার্সা সমর্থক |
রিয়াল মাদ্রিদ বনাম স্পোর্টিং গিহন এর ম্যাচে, গিহন জয়লাভ করবার পর, তাদের ক্যাপ্টেন ক্যাটালুনা রেডিও তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "রাজনিতিবিদদের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করার আমাদের উপায় যাকে অন্যায়ভাবে বিচার করা হচ্ছে। অনেক খেলোয়াড় এই দেশ থেকে এসেছেন, আমরা কাতালোনিয়া কে ভালবাসি এবং যা কিছু ঘটছে তা আমরা ভোগ করছি"। প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে এক গণভোটের মাধ্যমে কাতালোনিয়া দেশ তৈরি করবার প্রস্তাব করা হয়, যার ডাকে সারা দেন হাজার হাজার মানুষ। পরবর্তীকালে সকল নেতাদের জেল এ বন্দি করা হয়, যারা এই গণভোটের আয়জন করে।
3.পাওলো ডি ক্যানিও
২০০৫ সালের সেই বিতর্কিত "নাৎসি স্যালুটের" পরে , পাওল ডি ক্যানিও জানান "a fascist, not a racist"।
২০০৫ সালের সেই বিতর্কিত "নাৎসি স্যালুটের" পরে , পাওল ডি ক্যানিও জানান "a fascist, not a racist"।
![]() |
| লাজিও সমর্থক দের উদ্দেশে ফ্যাসিস্ট স্যালুট |
লাজিওর হয়ে খেলবার সময়, ডি-ক্যানিও তাদের বিপক্ষ দল রোমা এবং লিভরন এর সাথে ম্যাচ চলাকালিন, তিনি এই রোমান স্যালুট প্রদর্শন করেন, লাজিও দ্রশকে দের উদ্দেশ্যে।
প্রসঙ্গত এই স্যালুট ইতালিয় ফ্যাসিস্ট শক্তি ব্যবহার করে থাকেন , যেখানে রোমা এবং লিভরন ক্লাব বাম মতাদর্শকে সমর্থন করে। তাঁকে সাতহাজার ইউরো জরিমানা এবং এক ম্যাচ ব্যন করা হয়। পরবর্তীকালে তিনি সুইডনটাউনের ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত হলে, ঐ ক্লাবের স্পন্সর জিএমবি, নিজেদের স্পন্সরসিপ বাতিল করে দেন। ইংল্যান্ডের ক্লাব সাদারল্যান্ডএ ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত হলে, তৎকালীন শ্রমজীবী-রাজনীতিবিদ, ডেভিড মিলব্যান্ড, ক্লাবের সহকারী চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে পদত্যাগ করেন।
4.ফুটবল বিশ্বকাপ এবং লাতিন আমেরিকা
ফিফা, ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা বরাবর রাজনীতির অন্তকোন্দলে যুজে এসেছে। এবং তার ফল ভোগ করতে হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ গুলো কে। আবার অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার রাজনীতির সাথে ইউরোপিয় রাজনীতির চিন্তাধারা মিল না হওয়ায় বহু বছর লাতিন আমেরিকার খেলোয়াড়রা চাইলেও ইউরোপীয় ক্লাব গুলোতে খেলতে পারতেন না। তাদের ভিসা দেওয়া হত না। বিভিন্ন দেশের সরকারএর তরফ থেকে, তাদের দেশের ক্লাবদের, লাতিন খেলোয়াড় দের প্রস্তাব দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়।
এছারা বিশ্বকাপের আয়োজন করা নিয়ে বহুবার প্রকাশ্যে রাজনীতি এবং দুর্নীতিও দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য ভাবে ২০১৮র ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ২০২২ এ আসন্ন কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ। ২০২২এ কাতার ফুটবল সংস্থা কে বিশ্বকাপ আয়োজন করবার গুরু দায়িত্ব দেবার পর থেকেই না মহলে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে , ফলপ্রসূ সেপ ব্লাটারের পদত্যাগ।
প্রসঙ্গত এই স্যালুট ইতালিয় ফ্যাসিস্ট শক্তি ব্যবহার করে থাকেন , যেখানে রোমা এবং লিভরন ক্লাব বাম মতাদর্শকে সমর্থন করে। তাঁকে সাতহাজার ইউরো জরিমানা এবং এক ম্যাচ ব্যন করা হয়। পরবর্তীকালে তিনি সুইডনটাউনের ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত হলে, ঐ ক্লাবের স্পন্সর জিএমবি, নিজেদের স্পন্সরসিপ বাতিল করে দেন। ইংল্যান্ডের ক্লাব সাদারল্যান্ডএ ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত হলে, তৎকালীন শ্রমজীবী-রাজনীতিবিদ, ডেভিড মিলব্যান্ড, ক্লাবের সহকারী চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে পদত্যাগ করেন।
4.ফুটবল বিশ্বকাপ এবং লাতিন আমেরিকা
ফিফা, ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা বরাবর রাজনীতির অন্তকোন্দলে যুজে এসেছে। এবং তার ফল ভোগ করতে হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ গুলো কে। আবার অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার রাজনীতির সাথে ইউরোপিয় রাজনীতির চিন্তাধারা মিল না হওয়ায় বহু বছর লাতিন আমেরিকার খেলোয়াড়রা চাইলেও ইউরোপীয় ক্লাব গুলোতে খেলতে পারতেন না। তাদের ভিসা দেওয়া হত না। বিভিন্ন দেশের সরকারএর তরফ থেকে, তাদের দেশের ক্লাবদের, লাতিন খেলোয়াড় দের প্রস্তাব দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়।
এছারা বিশ্বকাপের আয়োজন করা নিয়ে বহুবার প্রকাশ্যে রাজনীতি এবং দুর্নীতিও দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য ভাবে ২০১৮র ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ২০২২ এ আসন্ন কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ। ২০২২এ কাতার ফুটবল সংস্থা কে বিশ্বকাপ আয়োজন করবার গুরু দায়িত্ব দেবার পর থেকেই না মহলে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে , ফলপ্রসূ সেপ ব্লাটারের পদত্যাগ।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচেয়ে প্রচলিত খেলা, সেখানে রাজনীতির নোংরা জাল বেছান মানেই এই খেলার সৌন্দর্য হৃত করা। যা ফুটবলের জন্য কদাচিত উপযোগী না।




No comments:
Post a Comment